
জন্মলগ্ন থেকেই অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা ও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি দক্ষ ও চৌকস বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে সমর্থ হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সকল ক্ষেত্রে অসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
যে সেকল সৈনিক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন , তাদের মানবেদতর জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে জীবন পার করতে হচ্ছে। এতজন সৈনিক ১৭তম গ্রেডে বেতন ভাতা পান, যা ৯,০০০/- টাকা সর্ব সাকুল্লে ১৩,৭৫০/- টাকা প্লাস। এই বেতন দিয়ে একজন সৈনিকের পরিবার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়, আমি মনে করি এটা সৈনিকদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে। যে সকল সৈনিকরা দেশ ও জাতীর জন্য জীবন বাজী রেখে দেশমাতৃকার কাছে নিয়োজিত আছে তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে বর্তমান সেনাপ্রধান ও সরকারের সংশ্লিষ্ঠ সকলের ভাবা উচিৎ বলে আমি মনে করি। সৈনিকদের বেতন-ভাতা মন্ত্রণালয়ের একজন ড্রাইভারের চেয়েও কম,যা সৈনিকদের সাথে চরম আকারে বৈষম্য । ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারনে সৈনিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো বলে মনে করেন সাধারণ সৈনিক সদস্যরা।
পে-স্কেল ছাড়াও বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মনে করি।
যেমন একজন সার্জেন্ট ১০তম গ্রেডে বেতন ভাতা পান, এই সার্জেন্টকে যদি ৯তম গ্রেডে দেওয়া হয়, তার পরের ধাপে কর্পোরাল, তার পরের ধাপে ল্যান্স কর্পোরাল, তার পরের ধাপে সৈনিককে দেওয়া হলে তাদের জীবনমান কিছুটা উন্নত হয়। এতে একজন সৈনিক প্রথমত সামাজিক ভাবে মর্যাদা পেতো ও আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হতো এবং সামরিক কর্যক্রম করতে মনোনিবেশ করতে পারবে ভালো ভাবে, সৈনিকদের কোন অসৎ উপায় অবলম্বন করতে হবে না।
আমরা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে সাধারন কর্মচারীদের বেতন কাঠামো তুলে ধরেছি।
০১। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ঃ ২০১৮ সালে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ছিল ১৫তম, বর্তমানে ১৩তম আছে ০৯/০২/২০২০ ইং তারিখে পরিবর্তন হয়েছে (বর্তমানে ১০তম গ্রেডের জন্য আলোচনায় আছে)
০২। মৎস অধিদপ্তরঃ ২০১৯ সালে মৎস কর্মচারীদের গ্রেড ছিল ১৬তম, বর্তমানে ১১তম আছে ১২/০৮/২০২০ ইং তারিখে পরিবর্তন হয়েছে।
০৩। স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ সচিবঃ ২০১৫ সালে গ্রেড ছিল ১৬তম, বর্তমানে ১০তম আছে ১৮/১১/২০২০ ইং তারিখে পরিবর্তন হয়েছে।
০৪। বন অধিদপ্তরঃ ড্রাইভারের গ্রেড ১২তম, কিন্তু একজন সৈনিকের গ্রেড ১৭তম এটা আসলেই বৈষম্য।
লেখকঃ শেখ রাজ হাসান,
আইন বিভাগের ছাত্র
অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়